পানছড়ি ,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পানছড়িতে গত ৩০শে অক্টোবর ২০২৪ প্রতিপক্ষের গুপ্ত হামলায় নিহত তিন ইউপিডিএফ সদস্যদের স্মরণে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৮ নভেম্বর শুক্রবার সকালে চেঙ্গী ইউনিয়নের তারাবন ছড়ায় সুর মঙ্গল চাকমার সঞ্চালনায় ও পানছড়ি ইউনিট সমন্বয়ক আয়চ্যুক ত্রিপুরা সভাপতিত্ব করেন।
শুরুতে শহীদ সিজন চাকমা, শাসন ত্রিপুরা ও জয়েন চাকমার স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইউপিডিএফ সমন্বয়ক আয়চ্যুক ত্রিপুরা, সংগঠক স্বাধীন চাকমা, রিপন ত্রিপুরা,দেবাশীষ চাকমা ও মানেক পুতি চাকমা ,শহীদ পরিবার বর্গ ও জন প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র গণ আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনা সরকার পতনের পর দেশে আমুল পরিবর্তন দেখা দিলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় তা ভিন্নরুপ অবস্থায় আছে। শাসক গোষ্ঠীর দমন-পীড়ন পাহাড়ে এখনো থামেনি এবং এই পরিস্থিতিতে বৈষম্য বিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র সমাজের চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি সহ ছাত্রদের ৮ দফা এবং এগত্তরের দাবীকে উপেক্ষা করে জন সংহতি সমিতি জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপ পানছড়িতে সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এক পর্যায়ে তারা ঘোষণা দেয়, তথাকথিত এমএন লারমা নামধারী সংস্কারবাদী জেএসএস ও নব্য মুখোশ বাহিনীদের সাথে তারা ঐক্য বদ্ধ হয়েছে।ফলে নব্য রাজাকার সংস্কার ও মুখোশ বাহিনীরা জেএসএস সন্তু দলের সহযোগিতা পেয়ে গত ৩০শে অক্টোবর ২০২৪ পানছড়ি লতিবান শান্তি রঞ্জন পাড়ায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ইউপিডিএফের ৩ সদস্য সিজন শাসন ও জয়েন চাকমাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে।এ পর্যন্ত চার শতাধিক ইউপিডিএফ কর্মী সমর্থককে প্রতিপক্ষের লোকেরা হত্যা করলেও আমরা এখনো সহনশীলতা ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়ে আসছি। ৩০ অক্টোবর ৩ সহযোদ্ধা সহ যারা এযাবৎ অধিকারের জন্য নিজেকে আত্মাহুতি দিয়েছেন সে সকল শহীদ সহযোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের, আমরা এই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারিনা, যতক্ষণ না পর্যন্ত বিপুল সুনীল লিটন মিঠুন অনিমেষ সহ সকল শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছেনা ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।
স্মরণ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) উপজেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের উপজেলার সভাপতি রিপন ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মানেক পুতি চাকমা, পানছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চাকমা, ইউপি চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র চাকমা, বিশিষ্ট মুরুব্বি বৈশাখ কুমার ত্রিপুরা ও রাইচা মারমা কার্বারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্যসমূহ